প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
9
সোমবার ০৫, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য সারা দেশে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা ফ্রন্ট, কল্যাণ ট্রাস্ট ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটিসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কোনো এলার্ট বা ঝুঁকির তথ্য নেই। উৎসবমুখর পরিবেশেই দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পুরো উৎসবজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে এবং কোনো হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গতবারের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি এবং তার আগের বছর প্রায় ২৮ হাজার।
জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুষ্ঠুভাবে উৎসব সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি তিন দিন। এর সঙ্গে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের ছুটি হবে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পূজার সময় নজরদারি জোরদারে সরকারি সংস্থাগুলো এমন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবে, যা এর আগে নির্বাচনের সময় জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ব্যবহার করেছিল। এই অ্যাপের মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য দ্রুত জানানো সম্ভব হবে। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আয়োজকদের সার্বক্ষণিক জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে হবে। জেনারেটর বিকল হলে বিকল্প হিসেবে রিচার্জেবল লাইট রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সিলেট, মানিকগঞ্জ ও দিনাজপুরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এসব ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে পুলিশ মহাপরিদর্শক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ নিয়মিত চাঁদাবাজ, সশস্ত্র অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা হালনাগাদ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধী হিসেবে দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
মাটিকাটা ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় রাতে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পর পুলিশের হস্তক্ষেপের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগ প্রতিরোধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের আগে আইনগতভাবে প্রাথমিক তদন্ত বা অনুসন্ধান করা জরুরি।
মিরপুরে হকার ও পুলিশের সংঘর্ষ এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে প্রাথমিক সমন্বয়ের অভাব ঘটনার একটি কারণ ছিল। এ বিষয়ে সরকারি তদন্ত শুরু হয়েছে।